Welcome, Guest
Username Password: Remember me

টিপাই বাঁধ নিয়ে সুরমা কুশিয়ারা তীরে আতঙ্ক চরমে : দু’দেশের বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্
(1 viewing) (1) Guest
Share the political views, news & events in here
  • Page:
  • 1

TOPIC: টিপাই বাঁধ নিয়ে সুরমা কুশিয়ারা তীরে আতঙ্ক চরমে : দু’দেশের বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্

টিপাই বাঁধ নিয়ে সুরমা কুশিয়ারা তীরে আতঙ্ক চরমে : দু’দেশের বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ 2 months, 2 weeks ago #25

  • mousumi
tipai-badh-nia-surma.jpg


TipaiMukh.jpg


টিপাইমুখ বাঁধ বাংলাদেশসহ বরাক-ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার জন্য হিরোশিমা-নাগাসাকি ধ্বংসকারী কয়েক ডজন পরমাণু বোমার চেয়েও ভয়াবহ এক জলবোমা। পরমাণু বোমা মানুষ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও এই ‘জলবোমা’ নিয়ন্ত্রণের কোনো শক্তি মানুষের হাতে থাকবে না। এই বাঁধ ভেঙে গেলে আসাম, মনিপুর ও বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এই উদ্বেগ ভারতের পানি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, টিপাইমুখ বাঁধ হবে বাংলাদেশের সাক্ষাত্ যম, ফারাক্কার চেয়েও ভয়াবহ এক বিপর্যয়। এই বাঁধ নির্মাণের চুক্তি হওয়ায় মনিপুর, মিজোরাম, আসাম রাজ্যসহ গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের কোটি কোটি মানুষ এবং বাংলাদেশের ১৬ কোটি দেশপ্রেমিক মানুষ উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে আছেন। তারা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।


কিন্তু কোনো উদ্বেগ বা উত্কণ্ঠা নেই শুধু বাংলাদেশের সরকারের মধ্যে। এই বাঁধের বিষয়ে তারা একেবারেই নির্বিকার ও চুপচাপ। বরং কথা বলছেন বাঁধের পক্ষে। রোববারও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে সরকারের কিছু করণীয় নেই।’ সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে এ ধরনের মন্তব্যের কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ, উদ্বেগ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরাক নদীতে একটি বাঁধ নির্মাণের প্রাথমিক ধারণা করা হয় ১৯৫৫ সালে মনিপুরের ময়নাধর অঞ্চলে। এরপর ১৯৬৪ সালে নারায়ণধর, এরপর ভুবনধরে এই বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হলেও তা পরিবর্তন করা হয়। ১৯৮০ সালে বাঁধের স্থান নির্ধারণ করা হয় বর্তমান স্থান টিপাইমুখ এলাকায়। ভারতের মনিপুর রাজ্যের তুইভাই ও তুইরয়ং নদী দুটির মিলিত স্রোতধারার নাম বরাক। নদী দুটির সঙ্গমস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার ভাটিতে (পশ্চিমে) মনিপুর রাজ্যের চুরাচাঁদপুর জেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলই ‘টিপাইমুখ’ নামে পরিচিত। বাঁধটির অবস্থান নির্ধারিত হয় সিলেটের জকিগঞ্জের অমলশীদ সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পূর্বে সঙ্কীর্ণ গিরিখাতে।
ভারতে প্রাথমিক পর্যায়ে বাঁধটি ব্রহ্মপুত্র ফ্লাড কন্ট্রোল বোর্ডের (বিএফসিবি) আওতায় ছিল। ১৯৮৫ সালে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর বাঁধটিকে টিপাইমুখ হাইড্রো ইলেকট্রিক পাওয়ার প্রজেক্টের আওতায় নেয়া হয়। ১৯৯৯ সালের ৯ জানুয়ারি মনিপুর রাজ্য সরকারকে টিপাইমুখ বাঁধের ব্যাপারে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে একটা সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠিত করতে বাধ্য করা হয়। ২০০৬ সালে নর্থ ইস্টার্ন ইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশন (নিপকো) প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদার চেয়ে বিজ্ঞাপন দেয় এবং ২০০৮ সালের মধ্যে নকশা (ডিজাইন) চূড়ান্ত করে। ২০০৮ সালের ২৮ জুলাই মনিপুর রাজ্য সরকার আইন পাস করে বাঁধের নিরাপত্তা ও নির্মাণসামগ্রী আনা-নেয়ার কাজে ব্যবহার করা মনবাহাদুর রোডের প্রতি সাত কিলোমিটার অন্তর অন্তর সামরিক পোস্ট স্থাপন করে। ২০০৮ সালের ২৪ অক্টোবর প্রকল্পটিতে পরিবেশ ছাড়পত্র দেয়া হয়। একইভাবে ফুলেরতলে এই প্রকল্পের আওতায় একটি ব্যারাজ ও সংযোগ-খাল নির্মাণ করে বরাকের পানি প্রত্যাহারের কথা বলা হয়। সবশেষে এই প্রকল্পটিকে ভারতের সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের দায়িত্বে দেয়া হয়।
১৯৯৯ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও মনিপুর রাজ্য সরকারের মধ্যে বাঁধ নির্মাণের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের বিশেষজ্ঞরা টিপাইমুখ বাঁধের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ ও দেশপ্রেমিক সচেতন মানুষ এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে লংমার্চ, বিক্ষোভ ও সভা-সমাবেশ করে, যার প্রেক্ষিতে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বৈঠকে ভারত বরাবরই প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল যে, বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর হয় এমন কিছু তারা করবে না। সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বাংলাদেশ সফরের সময়ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতাকালে টিপাইমুখ প্রকল্প বাস্তবায়নসহ বাংলাদেশের জন্য ক্ষতি হয় এমন কিছু করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত সার্ক শীর্ষ সম্মেলনেও একই প্রতিশ্রুতি দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু বাংলাদেশের সব প্রতিবাদ উপেক্ষা করে গত ২২ অক্টোবর বাঁধটি নির্মাণের জন্য ত্রিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে নয়াদিল্লিতে। পত্রপত্রিকায় এই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে ২০০৯ সালের ২৯ জুলাই সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী আওয়ামী দলীয় এমপি আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি সংসদীয় প্রতিনিধি দল টিপাইমুখ বাঁধ এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের অজুহাত তুলে ওই প্রতিনিধি দলের হেলিকপ্টার টিপাইমুখ বাঁধ এলাকায় নামানো হয়নি। ওই সময় বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভ্রমণটি ছিল ভারতের আরেকটি প্রহসন। ওই সময় ভারতীয় মন্ত্রী ও শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে টিপাইমুখ বাঁধ ও জলবিদ্যুত্ প্রকল্পের ডিজাইনসহ সব তথ্য চাওয়া হয়। ভারত তথ্য দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও আজও তা বাস্তবায়ন করেনি। ওই সফর শেষে দেশে ফিরে ৪ আগস্ট দলনেতা আবদুর রাজ্জাক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিগত ২০ থেকে ২২ বছর ধরে ভারতের কাছে টিপাইমুখ প্রকল্পের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু তারা দিতে রাজি হয়নি। তথ্য-উপাত্ত না পেয়েও এবং টিপাইমুখ এলাকায় নামতে না পেরেও তিনি সংবাদ সম্মেলনে জোরগলায় ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘টিপাইমুখ বাঁধে বাংলাদেশের ক্ষতি হবে না। ভারতের কথায় আমরা পুরোপুরি আশ্বস্ত।’ তিনি কিসের ভিত্তিতে ওই ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশবাসীর কাছে আজও তা রহস্যাবৃত।
সংশ্লিষ্টরা জানান, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প সম্পর্কে শুরু থেকেই বাংলাদেশকে চরমভাবে অবজ্ঞা করে চলেছে ভারত। এ ধরনের চুক্তি করার আগে বাংলাদেশকে জানানোর বিষয়ে বরাবরই প্রতিশ্রুতি দিলেও সেটি মানছে না ভারত। দুই দেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তির ৯ নম্বর ধারা অনুসারে, একতরফাভাবে কোনো যৌথ নদীর পানি ব্যবহারের সুযোগ নেই। এর পরও ভারত একের পর এক তা করে চলেছে। দেশের স্বার্থের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও দেশ ধ্বংসের এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়নি বাংলাদেশ। এমনকি কখনও ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তির অধীনে ভারতের দায়দায়িত্বের প্রসঙ্গও ভারতের কাছে উত্থাপন করেনি। বরং ভারতের মন্ত্রীদের প্রায় অবিকল ভাষায় (প্যারোডি) বাংলাদেশ সরকারের নীতিনির্ধারকরাও বলে যাচ্ছেন, এই প্রকল্পে বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি হবে না! বিষয়টি দেশপ্রেমিক মানুষকে আরও বেশি আতঙ্কিত করে তুলছে।
গতকালও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান বলেছেন, ‘টিপাইমুখ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে সরকারের কিছু করণীয় নেই। আর বিষয়টি অভ্যন্তরীণ হোক আর নাই হোক, এ বিষয়ে যদি কোনো কথা বলার থাকে তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলবে। সেখানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কোনো ভূমিকা নেই।’ এর আগে গত রোববার তিনি বলেছিলেন, ‘টিপাইমুখ বিষয়ে ভারতের কাছে জবাব চাওয়ার কিছু নেই। নয়াদিল্লির হাইকমিশনারের মাধ্যমে তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হয়েছে। আমাদের বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ক্ষতিকর হলে অবশ্যই আমরা পদক্ষেপ নেব, যাতে আমাদের কোনো ক্ষতি না হয়।’ এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা মন্ত্রণালয় এখনও কোনো বক্তব্য দেয়নি। তাছাড়া পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন এখন বিদেশ সফরে আছেন।
জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক পানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এসআই খান বলেন, টিপাইমুখ বাঁধ হবে বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয়। টিপাইমুখ বাঁধ নির্মিত হলে সুরমা, কুশিয়ারাসহ মেঘনা অববাহিকার নদীগুলো সব মরে যাবে। চার কোটির বেশি মানুষের জীবন-জীবিকা ধ্বংস হবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির মোস্তফা খান বলেন, টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্পটি নির্ধারিত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ একটি এলাকায়। এর নিচেই একটি প্লেটের অবস্থান। এই বাঁধ অকার্যকর হয়ে পড়লে বাংলাদেশসহ ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের বহু জনপদ নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, ভারত সরকার এ ধরনের বড় বড় বাঁধ নির্মাণ করছে আদিবাসী নিয়ন্ত্রিত এলাকায়। এসব প্রকল্পে ব্যাপকহারে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। মানবাধিকার লঙ্ঘন করেই তারা এসব প্রকল্প করছে। টিপাইমুখ প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে কয়েক হাজার আদিবাসী উদ্বাস্তু হয়ে পড়বে। তাদের ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যাবে। তাই সেখানেও এই বাঁধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক নদী আইন বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘উজানের দেশে টিপাইমুখের মতো একটি দৈত্যাকৃতির জলাধার নির্মাণ ভাটির দেশে কোনো ক্ষতি করবে না, এটি স্বয়ং ভাটির দেশই বলছে—এই নজির সারা বিশ্বের কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই। এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের ভূমিকা শুধু নতজানুমূলক নয়, একইসঙ্গে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভারতের এ প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্বয়ং মনিপুর ও মিজোরামের মানুষ সোচ্চার। মনিপুরের রাজধানী ইমফলে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে ২০টি অরাজনৈতিক সংগঠনের ডাকে হরতাল পালিত হয়েছে, আদালতে মামলা করা হয়েছে এবং এখনও নিয়মিত প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, ফারাক্কা ব্যারাজ হলে বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি হবে না, এই দাবি ভারত ১৯৫১ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত আমাদের অব্যাহতভাবে শুনিয়ে এসেছিল। ১৯৭৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভারত ফারাক্কার কারণে বাংলাদেশের কিছু সুবিধা হবে এই দাবিও করেছে। ফারাক্কা ব্যারাজের অপূরণীয় ক্ষতির তিক্ত অভিজ্ঞতার পর টিপাইমুখ বাঁধ ক্ষতিকর হবে না, ভারতের এই দাবি অন্ধের মতো মেনে নেয়ার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।
নিউজিল্যান্ডের ওতেগ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. ডগলাস হিল, ড. আসিফ নজরুল, বাপার সাধারণ সম্পাদক ড. আবদুল মতিন, শবিপ্রবির শিক্ষক জহিরুল হক শাকিলসহ বিশেষজ্ঞরা গত রোববার ‘টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ ও বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ’ শীর্ষক সেমিনারে বলেছেন, টিপাইমুখ হবে দ্বিতীয় ফারাক্কা। এটা যেন সাক্ষাত্ যম। দেশবাসী টিপাইমুখ বিষয়ে সরকারের অকার্যকর প্রয়াসে দারুণভাবে বিক্ষুব্ধ। রাজনৈতিক মতবিরোধ ও অবস্থান ভুলে ‘টিপাইমুখ বাঁধ’ নামক দৈত্যের থাবা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য জাতীয় ঐক্য জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে ভারতকে টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্প বাতিলে বাধ্য করার আহ্বান জানান।
ভারতেও টিপাইমুখের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হচ্ছে। সেখানে হরতাল, বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সম্প্রতি আসামের গৌহাটিতে আয়োজিত এক সেমিনারে ভারতের বিশেষজ্ঞ ড. পার্থজ্যোতি দাস, কেজে জয়, অধ্যাপক এসি ভাগবতী, ড. চন্দন মহন্ত, অধ্যাপক দুলালচন্দ্র গোস্বামী, অধ্যাপক এস জনকরাজন, বাস্তকার নীরজ ভাগলিকর, রবীন্দ্র নাথ, গিরীন চেতিয়া, ড. নিম্মি কুরিয়ান, অজিত পাটোয়ারী, ড. সিদ্ধার্থ কুমার, ড. আরকে রঞ্জন, রাজু নেপচা, শ্যামল দত্ত, ড. সঞ্জিতা বড়ুয়া, ড. ননী গোপাল মহন্তসহ অনেকেই বলেন, টিপাইমুখ ও সুবনশিরির মতো প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার অর্থ হলো বিশাল ভাটি অঞ্চল বরাক-ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা আর বাংলাদেশের মাথার ওপর কয়েক ডজন হিরোশিমা-নাগাসাকি ধ্বংসকারী বোমার সমান জলবোমা তৈরি করে রাখা হচ্ছে। অন্য বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো না ঘটানো মানুষের ইচ্ছাধীন হলেও এসব জলবোমা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা মানুষের হাতে নেই। সামান্য মাত্রার ভূমিকম্প বা ভূমিধসের ফলে এসব বাঁধ মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে। আর তখন চোখের পলকেই ভাটির আসাম ও বাংলাদেশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ সিটিজেন রাইটস মুভমেন্টের মহাসচিব তুষার রেহমান বলেন, সর্বনাশা একটি প্রকল্পের কাজ ভারত শুরু করলেও বাংলাদেশ এ নিয়ে বিশ্বসমাজ বা জাতিসংঘের কাছে প্রতিবাদ করেনি। এতে আমাদের কূটনৈতিক ব্যর্থতার প্রমাণ রয়েছে। তিনি ভারতের আগ্রাসী কার্যক্রমের বিষয়টি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক আদালতে উপস্থাপনের আহ্বান জানান।
অস্তিত্ব রক্ষার জন্য টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে লড়তে হবে : ফখরুল
টিপাইমুখে বাঁধ করার চুক্তিতে বাংলাদেশের তিন কোটি মানুষের জীবন শঙ্কায় পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ভারত সরকার টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের জন্য চুক্তি করার পরও বাংলাদেশ সরকার চুপ করে বসে আছে। এ বাঁধ তিন কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা বিপন্ন করবে। এটা কোনো ভালোবাসার কথা নয়, কোনো বিদ্রোহের কথা নয়। এটা আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন। আমরা যদি এর প্রতিবাদ করতে না পারি তাহলে ৫০ ভাগ হাওড় শুকিয়ে যাবে। দেশের পূর্বাঞ্চলে মরুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।
গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভাসানী স্মৃতি সংসদ এ আলোচনার আয়োজন করে।
সংগঠনটির সভাপতি নজমুল হক নান্নুর সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও অংশ নেন ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলু, সাবেক মন্ত্রী নূর মোহাম্মদ খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, ছড়াকার আবু সালেহ প্রমুখ।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশ যখন বিপন্ন তখন স্মরণ করি মওলানা ভাসানীকে। স্বাধীনতার পরে ভারতীয় সেনাবাহিনী যখন বাংলাদেশে অবস্থান করছিলো তখন তিনি গর্জে উঠেছিলেন। ফারাক্কার বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদী ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি। তাই তিনি আমাদের কাছে কিংবদন্তির মহানায়ক।
মির্জা আলমগীর বলেন, আজ যখন টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের সব পরিকল্পনা ভারত সম্পন্ন করে ফেলেছে তখন আমাদের মন্ত্রীরা বলছেন এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে মন্ত্রীরা স্বপদে বহাল থাকতে পারেন কিনা এটা গণমানুষের প্রশ্ন। সেই প্রতিমন্ত্রীর মুখে আবার ‘রাজনৈতিক ফায়দা’ ও ‘দেশপ্রেম’ শব্দ দেশের মানুষকে শুনতে হয়! এটা রাজনীতিকদের জন্য লজ্জার বলে বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন।
টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণ বিষয়ে গণমাধ্যমে সঠিক ও দেশপ্রেমমূলক সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় আমাদের লড়াই করতেই হবে। তবে দুঃখ হয় তিস্তার পানি পাওয়ার শেষ অস্ত্র ট্রানজিট-করিডোর দেয়ার পরও টিপাইমুখে বাঁধ দিয়ে পূর্বাঞ্চলের মানুষের মরণফাঁদ তৈরি করা হচ্ছে। আজ মওলানা ভাসানী বেঁচে থাকলে এর বিরুদ্ধে গর্জে উঠতেন। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব গণতন্ত্রের ব্যাপারে তিনি কখনও আপস করেননি।
ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন বলেন, ব্যক্তি ও দলের স্বার্থকেন্দ্রিক লড়াই বাদ দিয়ে দেশের স্বার্থরক্ষার যুদ্ধে নামতে হবে। আর সেটা করতে পারলে এতে দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়বে। ’৫২, ’৬২, ’৭১ ও ’৯০-এ যেভাবে এদেশের মানুষ নিজেদের স্বার্থে লড়েছে, এবারও সেভাবে একটি কঠিন পরীক্ষায় দেশের সব রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষকে রাজপথে নামতে হবে।
ড. মাহবুবউল্লাহ বলেন, টিপাইমুখে বাঁধ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসহ সবক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটা সাধারণ মানুষ জানে। তাই পূর্বাঞ্চলের মানুষ শঙ্কায় রয়েছেন। তিনি বলেন, বন্ধুত্বের ঋণের কারণে ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিবাদ করতে পারেননি। কিন্তু মজলুম জননেতা ভাসানী ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে লংমার্চ করেছিলেন। আর এখন মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা পারিবারিক ঋণ শোধ করতে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিচ্ছেন। টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে কথা না বলে সাফাই গাইছেন তার মন্ত্রীরা।
নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে সরকার প্রতিবাদ করছে না : বাংলাদেশ ন্যাপ
ভারতের মণিপুর রাজ্যে বরাক নদীতে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ন্যাপ। এ অবস্থায় শুধু যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকা কিংবা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, পতাকা-মানচিত্র রক্ষায়, ভারতীয় পানি আগ্রাসন টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে দেশের সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী সংগঠনসহ দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
গতকাল এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া বলেন, নতজানু ও পদলেহী পররাষ্ট্রনীতির কারণেই বর্তমান সরকার টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদ করতে পারছে না। তারা বলেন, ২০১০ ও ২০১১ সালে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে যৌথ ঘোষণায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বাংলাদেশের ক্ষতি হয় টিপাইমুখে এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে না। অথচ তিনি নিজেই আজ সেই প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ করছেন।
বাঁধের সিদ্ধান্ত বন্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে : জামায়াত
টিপাইমুখ বাঁধ ও পানি বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের জন্য ভারত সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ। বাংলাদেশের বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা করে টিপাইমুখ বাঁধ ও পানি বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের ব্যাপারে ভারতের একতরফা এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে তা বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় দলটি। রোববার জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদের সভাপতিত্বে দলের নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠকে এ উদ্বেগ ও আহ্বান জানানো হয়।
নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়, ভারত আন্তর্জাতিক নদী বরাকের ওপর বৃহদাকার টিপাইমুখ পানি বিদ্যুত্ প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। টিপাইমুখ বাঁধ ও পানি বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণে ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের রহস্যজনক নীরবতায় দেশবাসী ক্ষুব্ধ। টিপাইমুখ বাঁধ ও পানি বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ করা হলে বাংলাদেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। এর ফলে বাংলাদেশের কৃষি উত্পাদন ব্যাপক হারে কমে যাবে। বাংলাদেশর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বৃহত্তর সিলেট, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লাসহ ১২টি জেলা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য ও আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে। এতে বাংলাদেশের জনগণ ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ফারাক্কা বাঁধের কারণে যেমন বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ গোটা এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে তেমনি টিপাইমুখ বাঁধ ও পানি বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ করা হলে সারাদেশই বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। এব্যাপারে দেশের পানি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশ বিজ্ঞানীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা দেশবাসীকে অবহিত করে আসছেন।

Ref: 2bangla.com/index.php?option=com_wrapper...apper&Itemid=191
Last Edit: 2 months, 1 week ago by .
  • Page:
  • 1
Time to create page: 1.00 seconds
top